করোনা টেস্ট পজিটিভ কি না জানাবে স্মার্টফোন

TechtunesBd


করোনা টেস্ট প্রক্রিয়া

সারা বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের থাবায় থমকে আছে! সংক্রমিত হচ্ছে মানুষ। করোনায় আক্রান্ত কি না বুঝতে হলে খুবই যেসব পরীক্ষা চালু আছে তা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ এবং সময় অতিবাহিত হয়। এসব সমস্যা দূর করার জন্য বর্তমানে স্মার্টফোনের ক্যামেরা জানাবে আপনি করোনায় আক্রান্ত কি না।

সিআরআইএসপিআর-এর মাধ্যমেই অত্যন্ত সহজে কম সময়ে এই পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে। করোনা টেস্টের ক্ষেত্রে ভাইরাল আরএনএস থেকে ডিএনএ-তে বদল ঘটানোর পর ভাইরাস চিহ্নিত করা যায়। যাতে ফলাফল জানতে বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়। কিন্তু নতুন এই সিআরআইএসপিআর পদ্ধতির প্রয়োগে ভাইরাল আরএনএ থেকে আধ ঘণ্টার মধ্যেই রিপোর্ট জানা যাবে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।

শুধু তাই নয়, তারা জানাচ্ছেন, এই পদ্ধতিতে যেমন কোনও ব্যক্তি করোনা পজিটিভ না নেগেটিভ বলে দেওয়া যাবে, একইভাবে ভাইরাসের প্রভাব শরীরে ঠিক কতখানি, তাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া সম্ভব। আমেরিকার গ্ল্যাডস্টোন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ইনভেস্টিগেটর জেনিফার জানান,

সিআরআইএসপিআর -বেস্ড ডায়াগনোসিসের সবচেয়ে ভাল বিষয় হল এর মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য খুব অল্প সময়েই পাওয়া যায়। যে সমস্ত জায়গায় টেস্টিংয়ের সমস্যা কিংবা সেভাবে টেস্টিং হচ্ছে না, সেখানকার জন্য এই প্রযুক্তিকে দারুণভাবে কাজে লাগানো যাবে।


কিভাবে মোবাইল দিয়ে করোনা টেস্ট করা যাবে?

এবার প্রশ্ন হল এটি কীভাবে কাজ করে। এর সঙ্গে স্মার্টফোনের ক্যামেরারই বা কী সম্পর্ক। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এক্ষেত্রে সোয়াব টেস্টের নমুনাটি একটি ডিভাইসের উপর রাখতে হয়। যেটি কিনা স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত করা থাকবে। নমুনাটি এমনভাবে রাখতে হয় যাতে মোবাইলের ক্যামেরার মাধ্যমে তা দেখা যায়। এখানে ক্যামেরাটি আদতে আতসকাচের কাজ করে। তাতে চোখ রেখেই বলে দেওয়া যায় নমুনাটি করোনা পজিটিভ নাকি নেগেটিভ।

সাধারণত মানুষের নাকের লালা বা নমুনাগুলো প্রসেসিং করার পর করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের কিটের মাধ্যমে রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) বের করে আনা হয়।

এরপর আরএনএ-এ কোষের নমুনা ল্যাবরেটরিতে রাখা আরেকটি এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনের রাখা হয়। সংযুক্ত করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। এরপর বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে প্রস্তুত করা নমুনা নিয়ে আসা হয় রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিনে। এই মেশিনের সঙ্গে কম্পিউটার সংযুক্ত রয়েছে।

কম্পিউটারে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের সফটওয়্যার চালু করা হয়। যদি নমুনা কোষে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলে, তখন কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে ওঠে, করোনাভাইরাস পজিটিভ। আর যদি নমুনা কোষে করোনাভাইরাস না পাওয়া যায়, তখন করোনাভাইরাস নেগেটিভ লেখা ভেসে ওঠে।

বর্তমানে শিরভাগ মোবাইল ফোন থেকেই এই টেস্ট করা সম্ভব বলেই জানান গবেষকরা। এমনকী তারা এও দাবি করেছেন, মাত্র ৫ মিনিটেও অনেক সময় ভাইরাস চিহ্নিত করতে পারে এটি। তবে নির্ভুল ফল পেতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটই সময় নেয়। করোনা টেস্টের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এটি বড় আবিষ্কার।